সীমিত ভূমি, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি, নগরায়ণ এবং ক্রমবর্ধমান উন্নয়নের চাহিদার মধ্যে জনসংখ্যা ব্যবস্থাপনা দেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত বিষয়। বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে জনসংখ্যা শুধু একটি পরিসংখ্যান নয়, বরং মানুষের জীবনমান উন্নয়নের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।
পোস্ট সূচিপত্র
বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস কী?
বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস হলো এমন একটি আন্তর্জাতিক দিবস, যার উদ্দেশ্য জনসংখ্যা-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা। এই দিবসে সাধারণত আলোচনা করা হয়ঃ
- জনসংখ্যা বৃদ্ধি
- পরিবার পরিকল্পনা
- মাতৃস্বাস্থ্য
- প্রজনন স্বাস্থ্য
- নারীর ক্ষমতায়ন
- কিশোর-কিশোরীদের স্বাস্থ্য
- টেকসই উন্নয়ন
- শিক্ষা ও কর্মসংস্থান
বিশ্ব জনসংখ্যা দিবসের ইতিহাস
১৯৮৭ সালে বিশ্বের জনসংখ্যা আনুমানিক ৫০০ কোটিতে পৌঁছায়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে জনসংখ্যা বিষয়ক বৈশ্বিক সচেতনতা বৃদ্ধি পায়। পরবর্তীতে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (UNDP)-এর উদ্যোগে ১৯৮৯ সালে বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং ১১ জুলাই দিনটি এ উদ্দেশ্যে নির্ধারণ করা হয়। এর পর থেকে প্রতি বছর ভিন্ন ভিন্ন প্রতিপাদ্য নিয়ে দিবসটি পালিত হচ্ছে।
বিশ্ব জনসংখ্যা দিবসের উদ্দেশ্য
এই দিবসের মূল লক্ষ্যগুলো হলোঃ
- জনসংখ্যা বিষয়ক সচেতনতা বৃদ্ধি
- পরিবার পরিকল্পনার গুরুত্ব তুলে ধরা
- মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্য উন্নয়ন
- প্রজনন স্বাস্থ্যসেবা সম্পর্কে সচেতনতা
- নারী ও কিশোরীদের অধিকার নিশ্চিত করা
- টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (SDGs) অর্জনে জনসংখ্যার ভূমিকা তুলে ধরা
বাংলাদেশের জনসংখ্যার বর্তমান চিত্র
বাংলাদেশ বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশগুলোর একটি। তুলনামূলক ছোট ভৌগোলিক আয়তনের মধ্যে বিপুল জনগোষ্ঠীর বসবাস দেশের জন্য যেমন চ্যালেঞ্জ, তেমনি সম্ভাবনাও তৈরি করেছে। বাংলাদেশে জনসংখ্যা বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণঃ
- জনসংখ্যার ঘনত্ব
- বয়সভিত্তিক গঠন
- নগরায়ণ
- কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী
- জন্মহার
- মৃত্যুহার
- গড় আয়ু
এসব সূচক সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হচ্ছে এবং নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
জনসংখ্যা কেন গুরুত্বপূর্ণ?
জনসংখ্যা একটি দেশেরঃ
- অর্থনীতি
- উৎপাদন
- শ্রমবাজার
- শিক্ষা ব্যবস্থা
- স্বাস্থ্যসেবা
- অবকাঠামো
- খাদ্য নিরাপত্তা
- পরিবেশ
সবকিছুর ওপর প্রভাব ফেলে। সঠিক পরিকল্পনা থাকলে বড় জনসংখ্যা একটি দেশের শক্তিতে পরিণত হতে পারে।
জনসংখ্যা বৃদ্ধি: সমস্যা নাকি সম্ভাবনা?
এ প্রশ্নের একক উত্তর নেই।
সম্ভাবনা
যদি জনগোষ্ঠীঃ
- শিক্ষিত হয়
- দক্ষ হয়
- কর্মসংস্থান পায়
- সুস্থ থাকে
তবে তারা দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের চালিকাশক্তি হতে পারে।
চ্যালেঞ্জ
অন্যদিকেঃ
- বেকারত্ব
- খাদ্যের চাপ
- আবাসন সংকট
- যানজট
- পরিবেশ দূষণ
- স্বাস্থ্যসেবার চাপ
জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে বাড়তে পারে।
বাংলাদেশের জনমিতিক পরিবর্তন (Demographic Transition)
গত কয়েক দশকে বাংলাদেশে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছেঃ
- জন্মহার কমেছে
- শিশুমৃত্যু কমেছে
- গড় আয়ু বেড়েছে
- পরিবার পরিকল্পনার গ্রহণযোগ্যতা বেড়েছে
- নারীর শিক্ষার হার বৃদ্ধি পেয়েছে
এসব পরিবর্তন দেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে।
পরিবার পরিকল্পনার গুরুত্ব
পরিবার পরিকল্পনা শুধু জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ নয়, বরংঃ
- মাতৃস্বাস্থ্য রক্ষা
- শিশুস্বাস্থ্য উন্নয়ন
- পরিবারের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা
- নারীর ক্ষমতায়ন
- শিক্ষার সুযোগ বৃদ্ধি
এর সঙ্গেও সম্পর্কিত।
নারী শিক্ষা ও জনসংখ্যা
গবেষণায় দেখা গেছে, নারীর শিক্ষা বৃদ্ধি পেলে সাধারণতঃ
- বিয়ের গড় বয়স বাড়ে
- মাতৃস্বাস্থ্য উন্নত হয়
- পরিবার পরিকল্পনা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ে
- শিশুর পুষ্টি ও শিক্ষার মান উন্নত হয়
ফলে জনসংখ্যাগত পরিবর্তনেও ইতিবাচক প্রভাব পড়ে।
বাংলাদেশের জনসংখ্যাগত চ্যালেঞ্জ
বাংলাদেশ গত কয়েক দশকে স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং দারিদ্র্য হ্রাসে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করলেও জনসংখ্যার ঘনত্বের কারণে বিভিন্ন ধরনের চাপ মোকাবিলা করতে হচ্ছে। প্রধান চ্যালেঞ্জগুলোর মধ্যে রয়েছেঃ
- সীমিত ভূমিতে বিপুল জনগোষ্ঠী
- দ্রুত নগরায়ণ
- কর্মসংস্থানের চাহিদা
- স্বাস্থ্যসেবার ওপর চাপ
- পরিবেশ দূষণ
- আবাসন সংকট
- নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশনের চাহিদা
- জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব
দ্রুত নগরায়ণ
বাংলাদেশে প্রতি বছর বিপুলসংখ্যক মানুষ কর্মসংস্থান, শিক্ষা ও উন্নত জীবনযাত্রার আশায় শহরে আসছেন। এর ফলেঃ
- আবাসনের সংকট
- যানজট
- বায়ুদূষণ
- বস্তির বিস্তার
- বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সমস্যা
- পানির চাহিদা বৃদ্ধি
নগর পরিকল্পনা শক্তিশালী না হলে এসব সমস্যা আরও বাড়তে পারে।
খাদ্য নিরাপত্তা
জনসংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে খাদ্যের চাহিদাও বাড়ে। বাংলাদেশ কৃষি উৎপাদনে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করলেও ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনঃ
- আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি
- জলবায়ু-সহনশীল ফসল
- কৃষিজমি সংরক্ষণ
- খাদ্যের অপচয় কমানো
- নিরাপদ সংরক্ষণ ব্যবস্থা
কর্মসংস্থান ও জনসংখ্যা
বাংলাদেশের অন্যতম বড় শক্তি হলো বিপুল কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী। তবে এই জনসংখ্যাকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর করতে হবে।
প্রয়োজনঃ
- কারিগরি শিক্ষা
- তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ
- উদ্যোক্তা উন্নয়ন
- শিল্পায়ন
- ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের সহায়তা
- নারীদের কর্মসংস্থান বৃদ্ধি
যদি পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান সৃষ্টি না হয়, তাহলে বেকারত্ব ও সামাজিক সমস্যা বাড়তে পারে।
স্বাস্থ্যসেবার ওপর চাপ
বড় জনসংখ্যা মানেই স্বাস্থ্যসেবার চাহিদা বৃদ্ধি। প্রয়োজনঃ
- পর্যাপ্ত হাসপাতাল
- দক্ষ চিকিৎসক
- প্রশিক্ষিত নার্স
- গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবা
- মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্য কর্মসূচি
- টিকাদান কার্যক্রম
- মানসিক স্বাস্থ্যসেবা
ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবাও ভবিষ্যতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
শিক্ষা ব্যবস্থা
জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে শিক্ষা খাতেও বিনিয়োগ বাড়ানো জরুরি। গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ঃ
- মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা
- মাধ্যমিক শিক্ষা
- উচ্চশিক্ষা
- কারিগরি শিক্ষা
- ডিজিটাল শিক্ষা
- শিক্ষক প্রশিক্ষণ
একটি দক্ষ জনগোষ্ঠীই দীর্ঘমেয়াদে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ভিত্তি তৈরি করে।
জলবায়ু পরিবর্তন ও জনসংখ্যা
বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম। জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলেঃ
- উপকূলীয় অঞ্চলে চাপ
- নদীভাঙন
- জলাবদ্ধতা
- পানির সংকট
- পরিবেশগত অভিবাসন
বৃদ্ধি পেতে পারে। তাই জনসংখ্যা পরিকল্পনা ও জলবায়ু অভিযোজন একসঙ্গে বিবেচনা করা জরুরি।
পরিবেশ ও প্রাকৃতিক সম্পদ
বর্ধিত জনসংখ্যার কারণেঃ
- বনভূমির ওপর চাপ
- জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি
- বর্জ্য বৃদ্ধি
- বায়ু ও পানি দূষণ
- জ্বালানির চাহিদা
বাড়তে পারে। পরিবেশবান্ধব উন্নয়ন নীতি গ্রহণ করা সময়ের দাবি।
জনসংখ্যা ও অর্থনীতি
জনসংখ্যা অর্থনীতির জন্য একই সঙ্গে সুযোগ ও চ্যালেঞ্জ।
ইতিবাচক দিক
- বড় শ্রমবাজার
- ভোক্তার সংখ্যা বৃদ্ধি
- উৎপাদন বৃদ্ধি
- উদ্যোক্তা সৃষ্টি
- বাজার সম্প্রসারণ
নেতিবাচক দিক
- বেকারত্ব
- দারিদ্র্য
- অবকাঠামোর ওপর চাপ
- সামাজিক বৈষম্য
সঠিক নীতি থাকলে ইতিবাচক দিকগুলোকে কাজে লাগানো সম্ভব।
ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড (Demographic Dividend)
বাংলাদেশ বর্তমানে এমন একটি পর্যায়ে রয়েছে, যেখানে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর সংখ্যা তুলনামূলক বেশি, এটিকে বলা হয় Demographic Dividend। এই সুযোগ কাজে লাগাতে প্রয়োজনঃ
- দক্ষতা উন্নয়ন
- কর্মসংস্থান
- প্রযুক্তিগত শিক্ষা
- উদ্ভাবন
- বিনিয়োগ
অন্যথায় এই সুযোগ হারিয়ে যেতে পারে।
টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (SDGs) ও জনসংখ্যা
জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের সঙ্গে জনসংখ্যার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। বিশেষ করেঃ
- দারিদ্র্য দূরীকরণ
- ক্ষুধামুক্ত বিশ্ব
- সুস্বাস্থ্য
- মানসম্মত শিক্ষা
- লিঙ্গ সমতা
- নিরাপদ পানি
- শোভন কাজ
- টেকসই নগর
এসব লক্ষ্য অর্জনে সুষম জনসংখ্যা পরিকল্পনা গুরুত্বপূর্ণ।
সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ
বাংলাদেশ সরকার বিভিন্ন সময়ে জনসংখ্যা ব্যবস্থাপনা ও মানবসম্পদ উন্নয়নে নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। উদাহরণঃ
- পরিবার পরিকল্পনা কর্মসূচি
- সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি
- মাতৃস্বাস্থ্যসেবা
- ডিজিটাল স্বাস্থ্য উদ্যোগ
- নারী শিক্ষা উন্নয়ন
- সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি
এসব উদ্যোগ দীর্ঘমেয়াদে জনসংখ্যার গুণগত মান উন্নয়নে ভূমিকা রাখছে।
তরুণ জনগোষ্ঠী: বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শক্তি
বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য একটি অংশ তরুণ। এই তরুণ জনগোষ্ঠীকে যদি মানসম্মত শিক্ষা, প্রযুক্তিগত দক্ষতা এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ দেওয়া যায়, তাহলে তারা দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির অন্যতম চালিকাশক্তি হতে পারে।
তরুণদের সম্ভাবনার ক্ষেত্রগুলো হলোঃ
- তথ্যপ্রযুক্তি (ICT)
- ফ্রিল্যান্সিং
- স্টার্টআপ
- উৎপাদনশিল্প
- কৃষি উদ্যোক্তা
- সৃজনশীল শিল্প
- গবেষণা ও উদ্ভাবন
তবে দক্ষতা উন্নয়নে বিনিয়োগ না করলে এই সম্ভাবনা পুরোপুরি কাজে লাগানো কঠিন হবে।
প্রযুক্তি কীভাবে জনসংখ্যা ব্যবস্থাপনায় সহায়তা করছে
ডিজিটাল প্রযুক্তি এখন জনসংখ্যা-সংক্রান্ত পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবা
- টেলিমেডিসিন
- অনলাইন চিকিৎসা পরামর্শ
- ডিজিটাল স্বাস্থ্য রেকর্ড
- টিকাদান তথ্য সংরক্ষণ
ডিজিটাল জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন
সঠিক জনসংখ্যার তথ্য সংগ্রহে ডিজিটাল নিবন্ধন ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ।
তথ্য বিশ্লেষণ
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ও ডেটা অ্যানালিটিক্স ব্যবহার করে জনসংখ্যার প্রবণতা বিশ্লেষণ এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা আরও কার্যকর করা সম্ভব।
আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা থেকে বাংলাদেশের শেখার সুযোগ
বিভিন্ন দেশ জনসংখ্যা ব্যবস্থাপনায় ভিন্ন ভিন্ন কৌশল অনুসরণ করেছে।
জাপান
জাপানে জন্মহার কম এবং প্রবীণ জনগোষ্ঠীর সংখ্যা বেশি। ফলে দেশটি শ্রমশক্তি ধরে রাখতে প্রযুক্তি, রোবটিক্স এবং কর্মক্ষেত্রে অংশগ্রহণ বৃদ্ধির ওপর জোর দিচ্ছে।
দক্ষিণ কোরিয়া
দীর্ঘদিন ধরে কম জন্মহারের কারণে দেশটি পরিবারবান্ধব নীতি, শিশু লালন-পালনে আর্থিক সহায়তা এবং কর্মজীবী মায়েদের জন্য বিভিন্ন সুবিধা চালু করেছে।
ভারত
বিশাল জনসংখ্যার দেশ হিসেবে শিক্ষা, ডিজিটাল সেবা এবং স্বাস্থ্য খাতে বড় বিনিয়োগের মাধ্যমে মানবসম্পদ উন্নয়নের চেষ্টা করছে। বাংলাদেশ এসব অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে নিজস্ব বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নীতি গ্রহণ করতে পারে।
নারী ক্ষমতায়ন ও জনসংখ্যা
গবেষণায় দেখা গেছে, নারীর শিক্ষা ও অর্থনৈতিক অংশগ্রহণ বৃদ্ধি পেলে পরিবার, স্বাস্থ্য এবং শিশুর উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব পড়ে। নারীর ক্ষমতায়নের গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলোঃ
- মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা
- নিরাপদ কর্মপরিবেশ
- সমান মজুরি
- প্রজনন স্বাস্থ্যসেবা
- সিদ্ধান্ত গ্রহণে অংশগ্রহণ
কিশোর-কিশোরীদের সচেতনতা
জনসংখ্যা বিষয়ক সচেতনতা শুধু প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য নয়, কিশোর-কিশোরীদের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ, বিদ্যালয় ও পরিবারে আলোচনা করা যেতে পারেঃ
- স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন
- পুষ্টি
- প্রজনন স্বাস্থ্য সম্পর্কে বৈজ্ঞানিক শিক্ষা
- লিঙ্গ সমতা
- দায়িত্বশীল নাগরিকত্ব
জনসংখ্যা ও জলবায়ু অভিযোজন
বাংলাদেশে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে উপকূলীয় এলাকা, নদীভাঙনপ্রবণ অঞ্চল এবং খরাপ্রবণ এলাকায় মানুষের জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আসছে। সম্ভাব্য করণীয়ঃ
- জলবায়ু-সহনশীল অবকাঠামো
- পরিকল্পিত পুনর্বাসন
- দুর্যোগ প্রস্তুতি
- নিরাপদ পানির ব্যবস্থা
- পরিবেশবান্ধব নগর পরিকল্পনা
ভবিষ্যতের জন্য বাংলাদেশের অগ্রাধিকার
বিশেষজ্ঞদের সাধারণ সুপারিশ
জনসংখ্যাকে বোঝা নয়, সম্পদে পরিণত করতে প্রয়োজনঃ
- দীর্ঘমেয়াদি নীতিমালা
- তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত
- দক্ষতা উন্নয়ন
- গবেষণা ও উদ্ভাবনে বিনিয়োগ
- সরকারি ও বেসরকারি খাতের সমন্বয়
বিশ্ব জনসংখ্যা দিবসের গুরুত্ব বাংলাদেশের জন্য
বাংলাদেশের মতো ঘনবসতিপূর্ণ দেশে এই দিবস শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়। এটি নীতিনির্ধারক, গবেষক, শিক্ষার্থী এবং সাধারণ মানুষের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ, যেখানে জনসংখ্যা, উন্নয়ন ও মানবসম্পদ নিয়ে নতুন করে ভাবার সুযোগ তৈরি হয়।
বাংলাদেশের জন্য মূল করণীয়
১. পরিবার পরিকল্পনা সেবা আরও শক্তিশালী করা
- আধুনিক সেবা সম্প্রসারণ
- সচেতনতা বৃদ্ধি
- গ্রামীণ এলাকায় সহজলভ্যতা নিশ্চিত করা
২. দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি
- কারিগরি শিক্ষা
- ডিজিটাল দক্ষতা
- গবেষণা
- উদ্ভাবন
- উদ্যোক্তা উন্নয়ন
৩. নারী ও তরুণদের ক্ষমতায়ন
- উচ্চশিক্ষা
- কর্মসংস্থান
- নেতৃত্বে অংশগ্রহণ
- নিরাপদ কর্মপরিবেশ
৪. স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগ
- মাতৃস্বাস্থ্য
- শিশুস্বাস্থ্য
- টিকাদান
- মানসিক স্বাস্থ্য
- প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা
৫. পরিকল্পিত নগরায়ণ
- টেকসই আবাসন
- গণপরিবহন
- নিরাপদ পানি
- বর্জ্য ব্যবস্থাপনা
- সবুজ নগর
FAQ
১. বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস কবে পালিত হয়?
প্রতি বছর ১১ জুলাই বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস পালিত হয়।
২. বিশ্ব জনসংখ্যা দিবসের মূল উদ্দেশ্য কী?
জনসংখ্যা, পরিবার পরিকল্পনা, প্রজনন স্বাস্থ্য, মাতৃস্বাস্থ্য, নারী ক্ষমতায়ন এবং টেকসই উন্নয়ন সম্পর্কে বৈশ্বিক সচেতনতা বৃদ্ধি করা।
৩. বাংলাদেশের জন্য বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস কেন গুরুত্বপূর্ণ?
কারণ বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম ঘনবসতিপূর্ণ দেশ। সঠিক জনসংখ্যা পরিকল্পনা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থানের মাধ্যমে এই জনসংখ্যাকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর করা দেশের টেকসই উন্নয়নের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
৪. ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড কী?
যখন একটি দেশে কর্মক্ষম বয়সের মানুষের সংখ্যা নির্ভরশীল জনগোষ্ঠীর তুলনায় বেশি থাকে এবং সেই জনশক্তিকে দক্ষতায় রূপান্তর করা যায়, তখন যে অর্থনৈতিক সুবিধা তৈরি হয় তাকে ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড বলা হয়।
৫. পরিবার পরিকল্পনা কেন গুরুত্বপূর্ণ?
পরিবার পরিকল্পনা মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্য উন্নত করে, পরিবারকে অর্থনৈতিকভাবে স্থিতিশীল রাখতে সাহায্য করে এবং জনসংখ্যার সুষম বৃদ্ধি নিশ্চিত করতে ভূমিকা রাখে।
৬. জনসংখ্যা বৃদ্ধি কি সবসময় সমস্যা?
না। যদি শিক্ষা, স্বাস্থ্য, দক্ষতা ও কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা যায়, তাহলে বড় জনসংখ্যা একটি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের শক্তিশালী সম্পদে পরিণত হতে পারে।
The photo
উত্তরমুছুন